দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে : সাভারে জাবিতে শিক্ষামন্ত্রী


ষ্টাফ রিপোর্টার,সাভার,২০ জুন ২০২৬ (বিবিনিউজ ): দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে মেধা মূল্যায়নের মানদন্ডে মেধা মূল্যায়নের লক্ষ্যে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শুক্রবার সন্ধ্যায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৫তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীদের প্রবেশিকা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এ কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের মেধা মূল্যায়নে যুগান্তকারী পরিবর্তনের ঘোষণা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, দেশের নয়টি শিক্ষা বোর্ডে আলাদা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার বর্তমান পদ্ধতিটি আর যৌক্তিক নয়। মেধার সঠিক মূল্যায়নের লক্ষ্যে এখন থেকে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে সরকার।
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার অভিন্ন বিষয় গুলোতেও এই নিয়ম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ক্লাসরুম নিশ্চিতের ওপরও জোর দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন,শনিবারের সারাদেশ থেকে বিজয়ী হয়ে আগামীকাল ঢাকায় বনানীতে বাংলাদেশ আর্মি ষ্টেডিয়ামে ফাইনাল খেলায় অংশ নিবেন প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুনামেন্টের বালক ও বালিকা দল। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার বিতরণ করবেন প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আরো বলেন, কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছ। তোমরা এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে দেশের যোগ্য মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলবে বলে আমি বিশ্বাস করি। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মনে রাখতে হবে, যোগ্য মানবসম্পদ কেবল একটি উচ্চ শিক্ষার সনদপত্র এবং উচ্চ পদে আসীন হওয়া বোঝায় না, এর সঙ্গে নৈতিকতা, সততা এবং মানবিক গুণাবলি জড়িত। তাই আমি নবীন শিক্ষার্থীদের এসব মানবিক গুণাবলি অর্জনের পাশাপাশি সমাজ সচেতন একজন মানুষ হওয়ার আহ্বান জানাই। আমি নবীন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে উন্নত, প্রগতিশীল এবং প্রশংসনীয় মূল্যবোধ প্রত্যাশা করছি।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বলেন, তোমরা কঠোর প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মেধার স্বাক্ষর রেখে দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ণাঢ্য ও গৌরবময় ঐতিহ্যের অংশ হতে পেরে এক অনন্য সুযোগ লাভ করেছ। বিশ্ববিদ্যালয় কেবল উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জায়গা নয়, এটি মুক্তবুদ্ধি চর্চা, সংস্কৃতি এবং আত্ম-আবিষ্কারের এক বিশাল মঞ্চও বটে। এখানে তোমাদের এই নতুন পথচলাকে সফল করতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা জরুরি। আমরা চাই তোমরা শুধু পুঁথিগত বিদ্যায় শিক্ষিত না হয়ে, একজন মানবিক, নৈতিক ও দায়িত্বশীল সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠো। সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগাও, নিয়মানুবর্তিতা মেনে চলো এবং নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে অবিচল থাকো। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-কানুন ও মূল্যবোধ মেনে চলে তোমরা এই প্রতিষ্ঠানের সম্মান আরও উজ্জ্বল করবে, এটাই আমার প্রত্যাশা।
এতে আরো বক্তব্য রাখেন,
বিশেষ অতিথি উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রব ও জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু এবং স্বাগত বক্তব্য দেন শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন ।
অনুষ্ঠানে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ড. এ বি এম আজিজুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ ও ইনস্টিটিউটে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের স্ব স্ব অনুষদের ডিন এবং পরিচালকের নিকট পাঠদানের জন্য উপস্থাপন করেন এবং তাঁরা নবাগত শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য বরণ করে নেন। অনুষ্ঠানে জাকসু ভিপি, জিএস, ছাত্রদলের জাবি শাখার আহ্বায়ক, ছাত্রশক্তি, ছাত্রফ্রন্টের প্রতিনিধিরা নবাগত শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

Related posts

Leave a Comment